শীতে ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার


শীতের কনকনে হাওয়া যখন ত্বকে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ছিনিয়ে নিতে শুরু করে। তখন অনেকেই খুঁজে ফিরে এমন একটি উপাদান, যা ত্বকের ভেতরে পুষ্টি দিতে পারে।ঠিক সেই মুহূর্তেই প্রকৃতির দেওয়া এক অদ্ভুত উপহার অলিভ অয়েল হয়ে উঠতে পারে আপনার ত্বকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী।

শীতে- ত্বকের- যত্নে- অলিভ- অয়েলের- ব্যবহার

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রূপচর্চায় ব্যবহৃত এই সোনালী তেল শুধু শুষ্কতার সমস্যা দূর করেনা , ত্বকে আনিয়ে দেয় নরম ও কমল ভাব।শীত যতই গভীর হোক না কেন,  এক ফোঁটা অলিভ অয়েল হতে পারে আপনার ত্বকের জন্য একটা ভালো ময়েশ্চরাইজিং এর স্পর্শ ।

পেজ সূচিপত্রঃ(শীতে ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার)


শীতে ত্বকের সমস্যা ও অলিভ অয়েল এর প্রয়োজনীয়তা

শীতকাল আসলেই আমাদের প্রত্যেকের ত্বকের উপর এক্সট্রা একটা চাপ সৃষ্টি করে। এই সময়ে বাতাস শুষ্ক থাকে, আর ঠান্ডা বাতাসে কারনে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ত্বক খসখসে, র‍্যাশ, চুলকানি এগুলো দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল ছাড়াও হাত, পা, কনুই, ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্কতা দেখা দেয়। শীতের সময় পানির ব্যবহার কমে যাওয়া এবং গরম পানি ব্যবহারের হাত-পা ও ত্বকের আদ্রতা আরো কমিয়ে দেয়।

 ফলে ত্বক স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে এবং তা খসখসে হয়ে যায় ।এই পরিস্থিতিতে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য একটি গভীর পুষ্টিকর উপাদান দরকার যা ত্বককে ভেতর থেকে নরম ও কমল করে তুলবে । এক্ষেত্রে অলিভ অয়েল হতে পারে একটি কার্যকারী সমাধান ।অলিভ অয়েলে আছে ভিটামিন -ই , ভিটামিন -কে আনটি অক্সাসাইদ  যা শীতে শুস্কতা প্রতিরোধে ত্বকের জন্য অসাধারন ভুমিকা রাখে ।এটি ত্বকের উপরে একটি সুরক্ষা মুলক স্তর তৈরি করে। যা আদ্রতা দীর্ঘদিন ধরে রাখতে সাহায্য করে । পাশাপাশি ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্জীবিত করে এবং ত্বককে করে তোলে নরম কোমল ও স্বাস্থ্যবান। 


আরো পড়ুনঃ 

অলিভ অয়েল কি ও কেন এটি বিশেষ

অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল হল জলপাই ফল থেকে নিষ্কাশিত এক ধরনের প্রাকৃতিক তেল। যা পৃথিবীর প্রাচীনতম স্বাস্থ্য উপকারী উপাদান গুলোর মধ্যে অন্যতম ।এটি শুধু রান্নার কাজে নয় বরং শরীর, ত্বক, চুলের যত্নে ব্যবহার করে আসছে। অলিভ অয়েল তৈরি হয় জলপাই ফল চূর্ণ করে ও তার রস থেকে তেল আলাদা করে। বিশেষ করে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল সবচেয়ে বিশুদ্ধ ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। কারণ এটি ঠান্ডা পদ্ধতিতে তৈরি হয় এবং এতে কোন রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয় না।

অলিভ অয়েল কে বিশেষ করে তোলার প্রধান কারণ হলো এর অসাধারণ উপাদান সমূহ। এতে রয়েছে ভিটামিন ই যা ত্বকের জন্য  শক্তিশালী আন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে ।ভিটামিন ই ত্বকের কোষকে ফ্রি রেডিকালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে ও ত্বককে করে আরো মসৃণ ও উজ্জ্বল । পাশাপাশি এতে আছে হেলদি ফাটি এসিড  বিশেষ করে অলীক এসিড যা গভীরভাবে ত্বকের মধ্যে প্রবেশ করে আদ্রতা ধরে রাখে। শীতে যখন ত্বক শুকিয়ে যায় তখনই ফাটি এসিড একটি প্রাকৃতিক অসাধারণ কাজ করে।
এছাড়া অলিভ অয়েলে পাওয়া যায় পলিফেনাল ওস কোয়ালিন  ।যেগুলো ত্বকের বার্ধক্য রোধে অত্যন্ত কার্যকর । এগুলো ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কাজ করে কোষ পূর্ণ গঠনে সাহায্য করে এবং বলিরেখা বা সুক্ষ রেখা কমাতে ভূমিকা রাখে। সার্বিকভাবে অলিভ অয়েল ত্বকে  প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে ।যা শীতের ঠান্ডা ধুলা অসুস্থ বাতাসের বিরুদ্ধে বাধার মত কাজ করে ।

অলিভ অয়েল এর বিশেষত্বের আরো একটি দিক হলো এর বহুমুখী ব্যবহার এটি সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা যায়। বিভিন্ন ফেস পাক মাস্কের  সঙ্গে মেশানো যায় ।এমন কি শীতের রাতে স্কিন কেয়ার রুটিনের ন্যাচার নাইট অয়েল হিসেবেও ব্যবহার করা যায় । সংবেদনশীল ত্বকে এটি বেশ নিরাপদ । কারণ এতে কোন প্রকার রাসায়নিক উপাদান নেই। এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রেও অলিভ অয়েল ব্যবহার করা হয় ।

অলিভ অয়েল শুধু একটি তেল নয়। এটি প্রকৃতির এক অন্যান্য উপহার । যা ত্বককে আর্দ্র পুষ্টি এবং সুরক্ষিত রাখে । এর মতো কার্যকর ও প্রাকৃতিক উপাদান খুব কমই আছে তাই শীতের ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিশ্ব বাপি জনপ্রিয় ।

আরো পড়ুন:
 

শীতে ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল এর ব্যবহার

শীতের মৌসুম এলে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। ঠান্ডা বাতাস, কম আর্দ্রতার পরিবেশ এবং গরম পানিতে বারবার গোসল সব মিলিয়ে ত্বকে স্বাভাবিক তেল ও সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রুক্ষতা, চুলকানি, পিগমেন্টেশন, খসখসে ভাব এবং অস্বস্তিকর টানটান অনুভূতি দেখা দেয়। এ সময় ত্বকে গভীরভাবে মশ্চারাইজিং করে নিরাপদে পুষ্টি দেওয়ার জন্য প্রাকৃতিক উপাদানের গুরুত্ব বেড়ে যায়। আর এই ক্ষেত্রে ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের ব্যবহার সত্যি অসাধারণ ফল দিতে পারে।

অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল বহু যুগ ধরেই স্কিন কেয়ারের অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে অক্সিডেন্ট স্কয়ালিন এবং মনোসাচুরেটেড  ফাটি এসিড যা ত্বককে  নরম, মসৃণ, উজ্জ্বল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এজন্যই আজকাল অলিভ অয়েল স্কিন কেয়ার বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।

শীতকালে ত্বকে পর্যাপ্ত আদ্রতা ধরে রাখতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়। সাধারণ ময়েশ্চারাইজার অনেক সময় শুধু উপরের স্তরে কাজ করে, যা দ্রুত শুকিয়ে যায়। কিন্তু অলিভ অয়েল ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ডিহাইড্রেশন কমায় এবং একটি প্রাকৃতিক প্রকৃতির অক্ষাংশ তৈরি করে। এতে ত্বক দীর্ঘ সময় নরম থাকে এবং ঠান্ডা বাতাসের ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়। তাই শীতের ত্বক পরিচর্যাতে অলিভ অয়েল যুক্ত করা অত্যন্ত কার্যকর।

রাতে ঘুমানোর আগে বা মুখ বা শরীর কয়েক ফোটা অলিভ অয়েল হালকা মাসাজ  করে লাগালে ত্বক সারারাত পুষ্ট থাকে। যাদের ত্বক খুব বেশি বা সেনসিটিভ তাদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী। এছাড়া গোসলের পানিতে ২ চামচ অলিভ অয়েল মেশালে শরিরের ত্বক অনেক বেশি নরম থাকে। ঠোঁট ফাটা, কোনই শক্ত হয়ে যাওয়া, গোড়ালি ফাটা এসব শীতকালীন সমস্যার দ্রুত সমাধানে  অলিভ অয়েল কার্যকর ভাবে কাজ করে।

অলিভ অয়েল শুধুমাত্র মশ্চারাইজার হিসেবেই নয় বরং একটি প্রাকৃতিক  ক্লেঞ্জার হিসেবে দারুন।এটি ত্বক থেকে ময়লা, ধুলো এবং মেকআপ তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু ত্বকের ক্ষতি করে না।যারা রাসায়নিকযুক্ত স্কিন কেয়ার কম ব্যবহার করতে চান তাদের জন্য অলিভ অয়েল স্কিন কেয়ার হতে পারে একটি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক বিকল্প।

যদিও অলিভ অয়েল প্রায় সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী, তবুও অত্যাধিক তেল যুক্ত বা একনে প্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে। এমন ত্বকে হালকা পরিমাণে ব্যবহার করা ভালো অথবা সপ্তাহে ১ থেকে ২ দিন ট্রায়াল হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে।সব মিলিয়ে বলতে গেলে শীতের রুক্ষতা দূর করতে ত্বকে আদ্র উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর রাখতে ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল এর ব্যবহার সত্যি চমৎকার এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়। তাই  ঠান্ডা মৌসুমের ত্বকের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে চাইলে অলিভ অয়েল স্কিন কেয়ার রুটিনের যুক্ত করা নিঃসন্দেহে একটি সেরা সিদ্ধান্ত। 

শীতে ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েলের মূল উপকারিতা 

শীতের সময় তো ত্বক দ্রুত তার প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারায় ।ফলে খসখসে ভাব রুক্ষতাও টানটান অনুভূতির মতো সমস্যা দেখা দেয় ।এমন পরিস্থিতিতে অলিভ অয়েল ত্বকের জন্য আশীর্বাদের মতো কাজ করে  ।এর মশ্চরাইজিং  ক্ষমতা ত্বকের গভীরভাবে পুষ্টি যোগায় এবং ত্নক নরম ও  মসৃণ রাখে। ত্বকের সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে যা আদ্রতা আটকে রাখে এবং শুষ্কতার কারণে ত্বক ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ করে ।

অলিভ অয়েলের অন্যতম শক্তিশালী দিক হল এতে ভিটামিন ই ও আন্টি অক্সিডেন্ট আছে ।শিতের বাতাস শুষ্ক হউয়ায় ত্বকের কোষের  ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে যার  ।ফলে ত্বক দ্রুত খসখসে হয়ে যায়।অলিভ অয়েল ত্বকতে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের কোষ পুরনধার  করতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক থাকে আরো টাইট উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

এছাড়াও অলিভ অয়েল ত্বকের ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে। যা শীতের রাস, চুলকানি হওয়া ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী। এর স্কোয়ালিন উপাদান ত্বকের স্বাভাবিক তেল উৎপাদনের সহায়তা করে। । অলিভ অয়েল ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে আরামদায়ক অনুভূতি দেয় ।

হাত পা হাটু বা কনুই এর মত অতিরিক্ত রুক্ষ অংশে অলিভ অয়েল দ্রুত কোমলতা ফিরিয়ে আনে । শীতের রাতে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে ত্বক ঘুমের মধ্যে পুষ্টি পায ফলে সকালে ত্বক আরো নরম উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর লাগে। সার্বিক ভাবে বলা যায় শীতের ত্বকে সমস্যার সমাধানে অলিভ অয়েলের প্রাকৃতিক নিরাপদ কার্যকর সমাধান । যা ত্বককে দেয় গভীর ময়েশ্চারাইজিং সুরক্ষা ।
শীতে- অলিভ- অয়েল- বাবহারের- মূল-উপকারিতা


আরো পড়ুন: 

ত্বকে অলিভ অয়েল ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি

অলিভ অয়েল ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে শীতে খুব দ্রুত ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় । তাই অলিভ অয়েল ব্যবহারে নিয়ম জানা জরুরী। প্রথমে যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে । তেলটি সব সময় এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল হওয়া উচিত কারণ এটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ রাসায়নিক মুক্ত।

মুখে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অলিভয়েলের কিছু নির্দেশনা; রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে হালকা ভেজা অবস্থায় কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল আঙ্গুলের ডগায় নিয়ে পুরো মুখে হালকা হাতে মেসেজ করতে হবে। ভেজা ত্বকে ব্যবহার করলে তেল সহজে ত্বককে লক করে ফেলে এবং আদ্রতা অনেকক্ষণ ধরে রাখে। খুব শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে টোনার বা অ্যালোভেরার ওপরের অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যায় । তবে তেলতেলে বা ব্রণ প্রবণতা খুব অল্প ব্যবহার করতে হবে অথবা আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন ।

শরীরে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অলিভ অয়েলের কিছু দিকনির্দেশনা; গরম পানি দিয়ে গোসল করার পর শরীর হালকা ভেজা থাকতে অলিভ অয়েল লাগালে এটি সবচেয়ে ভালোভাবে সূচিত হয়। বিশেষ করে হাঁটু, কোনই, গোড়ালি, হাত, পায়ের শুকনো অংশে তেলটি ভালোভাবে মেসেজ করলে রুক্ষতা দ্রুত কমে যায় এবং ত্বক নরম থাকে রক্ষতা কমে যায়।


নাইট স্কিন কেয়ার রুটিনে অলিভ অয়েল এর ব্যবহার; রাতে ঘুমানোর আগে কিছুটা উষ্ণ অলিভ অয়েল মুখেও শরীরে ব্যবহার করলে, ত্বক সারারাত পুষ্টি পায়। চাইলে অলিভ অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ভিটামিন ই ওয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন, যা ত্বককে আরো কোমল করে ।

লিপ কেয়ারের ক্ষেত্রে অলিভ অয়েলের ব্যবহার; শীতে ঠোঁট বেশি ফেটে গেলে ঘুমানোর আগে অলিভ অয়েল লাগানো খুবই কার্যকর। এটি লিপবামের মত কাজ করে এবং ঠোঁটকে নরম রাখে।

সাবধানতা;  দিনে সরাসরি রোদে যাওয়ার আগে অলিভ অয়েলের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন । কারণ এটি ত্বকে ধুলো আটকে রাখতে পারে। এছাড়া মুখে অতিরিক্ত ব্যবহারে তেলতেলে ভাব আনতে পারে ।তাই প্রয়োজন মত ব্যবহারে এবং  সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানলে অলিভ অয়েল শীতের ত্বককে সারাদিন রাখে নরম উজ্জ্বল ও সুস্থ।

যাদের জন্য অলিভ অয়েল উপযুক্ত বা উপযুক্ত নয়ঃ
অলিভ অয়েল প্রকৃতির অন্যতম পুষ্টিকর তেল । যা ত্বকের জন্য অনেক উপকারী হলেও এটি সবার জন্য সমানভাবে উপযুক্ত নয়। ত্বকের ধরন সংবেদনশীলতা ও স্কিন কন্ডিশন অনুযায়ী অলিভ অয়েলের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। তাই অলিভ অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগে জেনে নিতে হবে কার জন্য ভালো এবং কার জন্য সতর্কতা।

যাদের জন্য অলিভ অয়েল উপযুক্তঃ
অত্যন্ত শুষ্ক ত্বকঃ শীতে যাদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় ফেটে যায় বা রুক্ষ হয়ে যায় অলিভ অয়েল তাদের জন্য দারুন কার্যকর। এতে থাকা অলিক এসিড ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে। যা আদ্রতা আটকে রাখে এবং শুষ্কতা দূর করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে শুষ্ক হয়ে ওঠে নরম আরামদায়ক । 

সংবেদনশীল ত্বকঃ যদিও সব সংবেদনশীল ত্বকে অলিভ অয়েল মানায় না । তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল নিরাপদ । এতে কোন রাসায়নিক নেই ,তাই এটি ত্বক জ্বালা , চুলকানি বা অ্যালার্জি ঘটায় না । ত্বকে রাস, লাল ভাব বা শিতের  ইনফ্লামেশন থাকলে  অলিভ অয়েল আরাম দেয় ।

বয়স জনিত ত্বকঃ যাদের ত্বকে ফাইন লাইন বলিরেখা বা বয়সের ছাপ দেখা দিতে শুরু করেছে , তারা উপকার পাবেন।অলিভ অয়েলের ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষ পূর্ণ গঠনে সাহায্য করে এবং উজ্জ্বল রাখে ।

শিশুদের শুষ্ক ত্বকঃ শিশুরা রাতে বেশি শুষ্কতা অনুভব করে তাদের ত্বকে অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে ময়শ্চেরাইজিং ভালো হয় । এতে তাদের শুষ্কতা ভাব দূর হয় এবং ত্বক নরম ও কমল করে ।
যাদের-জন্য-অলিভ অয়েল-উপযুক্ত

যাদের জন্য অলিভ অয়েল এর উপযুক্ত নয় বা সর্তকতা প্রয়োজন

অতিরিক্ত তেলতেলে ত্বকঃ খুব তেলতেলে তাদের জন্য অলিভ অয়েল সব সময় ভালো নাও হতে পারে। এটি ত্বকের তেল আরো বাড়িয়ে দিতে পারে এবং মুখে ভারি ভাব আনতে পারে। বিশেষ করে নাক, কপাল অতিরিক্ত তেলতেলে হলে ব্যবহার সীমিত রাখা উচিত।

 ব্রন প্রবন বা একনে  স্কিন ; অলিভ অয়েলের ঘন ও ভারী ধরনের তেল। যা সহজে স্পোর্টস ব্লক করতে পারে । ফলে ব্রণ প্রবণ ত্বকে একটি নতুন ব্রণ বা ইনফ্লামেশন বাড়াতে পারে। যাদের নিয়মিত ব্রণ উঠে তারা মুখে ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করবেন অথবা এড়িয়ে চলবেন ।দিনের বেলা বাহিরে যাওয়ার আগে অলিভ অয়েল এড়িয়ে চলুন। কেননা এটি তোকে ধুলোবালি আটকে রাখতে পারে ।
 
অলিভ অয়েল শীতে ত্বকের জন্য সাধারণ হলেও এটি সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী নয় ।শুষ্ক সংবেদনশীল বা বয়সজনিত ত্বকে কি দারুন কাজ করে কিন্তু তেলতেলে বা ব্রণ প্রবণ ত্বকে সতর্কতা জরুরী। তাই সঠিকভাবে বেছে নিলে অলিভ অয়েল হতে পারে শীতের স্কিন কেয়ার সেরা প্রাকৃতিক সঙ্গি।

আরো পড়ুন: 

সেরা ফলাফলের জন্য অতিরিক্ত টিপস

 শীতের সময় ত্বকে নরম উজ্জ্বল সুস্থ রাখতে শুধুমাত্র অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে যথেষ্ট নয় ।এর সঙ্গে কিছু অতিরিক্ত যত্নযুক্ত করলে ফলাফল আর উন্নত হয়। শীতের রুক্ষ আবহাওয়া ত্বক থেকে আর্দ্রতা ছিনিয়ে নেয়। তাই ত্বকে বাহিকভাবে মশ্চারাইজার ব্যবহার করার পাশাপাশি অলিভ অয়েলের কিছু ব্যবহার জানা  খুব জরুরী নিচে এমন কিছু কার্যকর টিপস দেওয়া হলঃ

হালকা ভেজা ত্বকে অলিভ অয়েল এর ব্যবহার করুন  ।শুষ্ক ত্বকে তেল ভালোভাবে শোষিত হয় না। তাই মুখ বা শরীর ধোয়ার পর যখন ত্বক একটু ভেজা থাকে তখন অলিভ অয়েল লাগালে এটি গভীরভাবে প্রবেশ করে এবং আদ্রতা দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখে। এতে স্কিন স্মুথ থাকে এবং খসখসে ভাব কমে।

নিয়মিত এক্সফ্লরিয়েশন ; সপ্তাহে ১-২ দিন হাল্কা স্ক্রব দিয়ে ত্বকের মৃত কোষ পরিস্কার করুন । এতে আলভেরা অয়েল ত্বকে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে । মৃত কোষ জমে থাকলে তেল ত্বকের উপরে  স্তর ত্বকের উপরে স্তর তৈরি করলেও ভেতরে শোষিত হয় কম তাই স্কিন নিস্তেজ হয়ে যায় ।

গরম পানি ব্যবহার কমান ;শিতে অনেকে গরম পানি দিয়ে গসল করে, ফলে ত্বকে প্রাকিতিক তেল নষ্ট হয়ে জায় ।তাই হাল্কা গরম পানি ব্যবহার করুন এবং গোসলের পরেই অলিভ অয়েল মেখে নিন এতে ত্বকের ময়েশ্ছার বালেঞ্ছ করে ।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন ; শিতকালে অনেকেই কম পানি পান করে থাকেন ,ফলে ত্বক ভেতরে থেকে শুখিয়ে জায় ।দিনে কমপক্ষে ৬-৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে ।জা ভেতর থেকে হাইদ্রেড থাকে ।

রাতে স্কিন কেয়ার রুটিনে গুরুত্ব দিন ;রাতে ত্বকের পূর্ণগঠন বেশি হয় । তাই ঘুমানোর আগে অলিভ অয়েলের ব্যবহার করলে ত্বক সারারাত পুষ্টি দেয় । চাইলে ভিটামিন -ই ক্যাপস্যুল ১-২ ফোঁটা মিশিয়ে নিতে পারেন ।

সূর্যালোক থেকে সুরক্ষা; শিত হলেও সূর্যের বেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতি হতে পারে ।দিনের বেলায় বাহিরে গেলে অবশ্যয় সান্সক্রিম ব্যবহার করুন , তারপর প্রয়োজন হলে খুব অল্প হারভেস্তেড ময়েশ্চারাইজার নিন ।অলিভ অয়েল দিনে ব্যবহার না করায় ভালো ।

সঠিক ব্যবহার জেনে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে শিতে অলিভ অয়েল হতে পারে আপনার আসল সঙ্গি ।

আরো পড়ুন: 


উপসংহার

শীত এমন একটি ঋতু যেখানে ত্বকের যত্ন না নিলে খুব দ্রুত এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ঠান্ডা বাতাস কম আর্দ্রতা ধুলোবালি এবং গরম পানির ব্যবহার সব মিলিয়ে ত্বকের উপর এমন চাপ সৃষ্টি হয়। যা বছরের অন্য সময় খুব কম দেখা যায় ।শীতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যাওয়া ত্বকের মলিনতা দ্রুত উঠে যাওয়া এবং পরিবেশগত ক্ষতি । এসব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই ময়েশ্চারাইজার, ক্রিম ও লোশনের সাহায্য নেন। কিন্তু প্রকৃতির দেওয়া এমন একটি উপাদান আছে যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ত্বককে রক্ষা করে আসছে ।যেটা হলো অলিভ অয়েল।

 পুরো আলোচনা শেষে দাঁড়িয়ে পরিষ্কার বোঝা যায় যে অলিভ অয়েল কোন সাধারণ তেল নয় এটি একটি প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি তেল যা  ভেতর থেকে পুষ্টি যোগায় এবং বাহিরের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে । শীতে যখন ত্বক দ্রুত আদ্রতা হারায় তখন অলিভ অয়েলে  থাকা ফাটি এসিড ত্বকের উপর একটি সুরক্ষা মূলক স্তর তৈরি করে জাগ্রতা ধরে রাখে ,এবং বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফলে ত্বক বার্ধক্য বা শুষ্কতা থেকে সুরক্ষিত থাকে।

শীতের ত্বক সমস্যার মধ্যে শুস্ক ,রুক্ষতা দাঁগ   ছোট ছোট ফাটল, চুলকানি কিম্বা ফাইন লাইন এসব অভিযোগ খুবই সাধারণ। অলিভ অয়েল এসব সমস্যা কে প্রাকৃতিকভাবে কমাতে সক্ষম,। কারণ এতে  রয়েছে  কোয়ালিন অলিক এসিড, পলিফেনাল সহ এমন সব উপাদান যা ত্বকের গভীর স্তরে প্রবেশ করে আদ্রতা এবং সুরক্ষা প্রদান করে। আমরা আলোচনা থেকে দেখেছি ত্বক বিশেষ করে শুষ্ক এবং সংবেদনশিল ত্বকের জন্য অত্যন্ত কার্যকর ।যাদের ত্বক শীতে অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় তাদের জন্য অলিভ অয়েলের মত গভীর ময়েশ্চারাইজার খুবই উপকারী ।

তবে উপকার যেমন বেশি তেমনই সতর্কতা আছে ।অলিভ অয়েল ঘন এবং তেলতেলে হয় ব্রণ প্রবনও খুব তেলতেলে ত্বকের ক্ষেত্রে কখনো কখনো বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। তাই কারো যদি আকনে বা পোর ব্লক হওয়ার সমস্যা থাকে তবে মুখে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে। একইভাবে দিনের বেলা বাহিরের যাওয়ার আগে মুখে অলিভ অয়েল লাগানো ঠিক নয় এতে ধুলোবালি সহজে আটকে দেয়। কার্যকরি ব্যাবহার করতে হলে ব্যবহার পদ্ধতি জানার জরুরী। অলিভ অয়েল ব্যবহারের সঠিক নিয়ম যেমন মুখ ধোয়ার পর ভেজা ত্বকে ব্যবহার করা ।

 শুধু তেল লাগালেই হবে না, সাথে লাইফস্টাইলও ঠিক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করা, স্বাস্থ্যকর খাবার নিয়মিত খাওয়া, রুমের আদ্রতা ঠিক রাখা এসব অতিরিক্ত টিপস অনুসরণ করলে অলিভ অয়েল এর উপকারিতা দ্বিগুণ হয়ে যায়।অলিভ অয়েলের বহুমুখী ব্যবহার  রয়েছে ।এটি আলাদা করে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেই নয় বরং ফেসপ্যাক, বডি স্ক্রাব , লিপ কেয়ার এমনকি ন্যাচারাল নাইট ওয়েল হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

 এর বিশুদ্ধতা যত বেশি ত্বকের উপাদান তত দ্রুত। তাই সব সময় এক্সট্রা ভার্জিন কোর্ড ব্রেস্ট অলিভ অয়েল বেছে নেওয়া উচিত। সার্বিকভাবে দেখা যায় শীতে ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল এক অসাধারণ সহজলভ্য এবং নিরাপদ উপাদান জা ত্বকের আদ্রতা ফিরিয়ে দেয় , ত্বকের উজ্জলতা বাড়ায়, তাছাড়া এর আন্টি অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ত্বককে পরিবেশগত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফলে শীতে ত্বক মলিন হয়ে পরেনা ।
সবশেষে বলা যায় শীতের ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল একটি সম্পূর্ণ সমাধান। নিয়মিত সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত পুষ্টি পৌঁছে দেয়। ত্বকে স্বাস্থ্যকর রাখে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।শিত জতই কঠোর হোক অলিভ অয়েলে সঠিক ব্যবহার ত্বকে ফিরিয়ে আনে মসৃণ উজ্জ্বল প্রাণবত্ন। তাই নিজের স্কিনটন অনুযায়ী ব্যবহারের নিয়ম মেনে চললে অলিভ অয়েল  হতে পারে শীতের স্কিন কেয়ারের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রাকৃতিক সঙ্গী।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সুমি ডিজিটালসেরনীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Mst. Sumi Akter
Mst. Sumi Akter
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও সুমি ডিজিটালস এর একজন অ্যাডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।